নমস্কার দর্শক বন্ধু। আশাকরি, আজকের দিনে অর্থাৎ ১৮ই অক্টোবর ২০২৫, শনিবার, সবাই ধনতেরাসের অনুষ্ঠান পালন করেছেন এবং সাধ্যমতো সোনা বা হলুদ ধাতু অর্থাৎ কাঁসা-পিতল ইত্যাদি কিনেছেন; আবার কেউ মাটির ঘট কিনে তাতে হলুদ কয়েন গচ্ছিত রেখেছেন।
আগামীকাল অর্থাৎ ১৯শে অক্টোবর ২০২৫, রবিবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত কার্তিকী কৃষ্ণা ত্রয়োদশী থাকবে। এই সময়ের শুভক্ষণে আপনারা সোনা বা ওই ধরনের কোনো মূল্যবান বস্তু কিনতে পারেন; তবে রুপা, তামা, লোহা, স্টিল ইত্যাদির জিনিসপত্র কিনবেন না।
যাইহোক, যেটা বারবার বলতে চাইছি— যাঁরা এই ত্রয়োদশীর শুভক্ষণে ঝাঁটা ইত্যাদি কিনে বাড়িতে নিয়ে গেছেন, আশাকরি সারা বছর তাঁদের সংসারে ঝগড়াঝাঁটি, অশান্তি, দারিদ্রতা লেগেই থাকবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আপনারা অবশ্যই মিলিয়ে নেবেন। কিন্তু যাঁরা ঝাঁটা কেনেননি বা ত্রয়োদশীর দিন ঝাঁটা ইত্যাদি কিনে ঘরের ঝুল ইত্যাদি পরিষ্কার করেননি, তাঁরা সারা বছর সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধিতে ভরে থাকবেন; এতেও কোনো সন্দেহ নেই। যাইহোক, মিলিয়ে নেবেন।
🕯️ ভূত চতুর্দশী এবং ১৪ শাক ভক্ষণ
সেই সঙ্গে আগামীকাল ১৯শে অক্টোবর ২০২৫, রবিবার সন্ধ্যায় ভূত চতুর্দশী পালন করতে ভুলবেন না এবং চোদ্দো পুরুষের উদ্দেশে ১৪টি প্রদীপ অথবা ১৪টি মোমবাতি জ্বালিয়ে এই মন্ত্রটি কমপক্ষে ১০ বার করে মনে মনে জপ করতে পারলে চোদ্দো পুরুষের আশীর্বাদ লাভের সম্ভাবনা থাকে প্রবল।
মন্ত্রটি হলো:– “নমঃ পিতৃভ্যঃ প্রেতেভ্যো নমো ধর্ম্মায় বিষ্ণবে।
নমো ধূম্রায় রুদ্রায় কান্তারপতয়ে নমঃ।।”
এছাড়া আগামী পরশু ২০শে অক্টোবর ২০২৫, সোমবার তিথি চতুর্দশী থাকবে দুপুর ২টো ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ এই দিনের শুভক্ষণে প্রথম ভাতে অর্থাৎ দুপুরে ভাত খাবার শুরুতে ১৪টি শাক একত্রিত করে ভেজে বা রান্না করে খেতে হয়। সেগুলি হলো যথাক্রমে:
১. ওল, ২. কেঁউ, ৩. সরিষা, ৪. বেতো, ৫. নিম, ৬. জয়ন্তী, ৭. কালকাসুন্দে, ৮. শাঞ্চে, ৯. হিলঞ্চ, ১০. শৌলফ, ১১. পলতা, ১২. গুলঞ্চ, ১৩. ভাঁটপাতা, এবং ১৪. সুষণীশাক। এই ১৪টি শাক খাওয়া উচিত।
🔥 যম চতুর্দশী, উল্কাদান ও পূজা
সন্ধ্যায় যম চতুর্দশী পালন করা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। আগামীকাল সন্ধ্যা ৫টা ৫ মিনিট থেকে রাত্রি ৬টা ৪১ মিনিটের মধ্যে সূর্যপুত্র ধর্মরাজ শ্রীশ্রী যমরাজের পূজাসহ ভূত চতুর্দশী এবং উল্কাদানাদি অবশ্যই বাঞ্ছনীয়।
উল্কা গ্রহণ মন্ত্র : –“শস্ত্রাশস্ত্র হতানাঞ্চ ভুতানাং ভুতদর্শয়োঃ।
উজ্জ্বল জ্যোতিষা দহেং ব্যোমবহ্নিনা।।”
উল্কাদান মন্ত্র :- “অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা যেহপ্যদগ্ধাঃ কূলে মম।
উজ্জ্বল জ্যোতিষা দগ্ধান্তে যান্ত পরমাং গতিম্।।”
উল্কা বিসর্জন মন্ত্র : -“যমোলোকাং পরিত্যজ্য আগতা যে যমালয়ে।
উজ্জ্বল জ্যোতিষা বর্ত্ন প্রপশ্যন্তো ব্রজন্ত তে।।”
এরপর রাত্রি ৬টা ৪১ মিনিটের মধ্যে প্রথমে গঙ্গা বা পবিত্র জলাশয়ের ধারে সর্বপ্রথম অলক্ষ্মীর পূজা করে পিছনে না তাকিয়ে বাড়ি ফিরে স্নানান্তরে শ্রীশ্রী মা শুভ লক্ষ্মীর পূজা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সেই সঙ্গে দীপাবলি অনুষ্ঠান পালন করাও অবশ্যই বাঞ্ছনীয়।
শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের পূজা
যে বা যাঁরা এই রাত্রিতে শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের পূজা করবেন বলে স্থির করেছেন, তাঁরা নিজেদের রাশি অনুযায়ী শুভক্ষণটি জেনে নিয়ে পূজা করবেন; আশা করি অবশ্যই সফল হবেন।
🌟 শ্রীশ্রী মা তারার আবির্ভাব তিথি
অনেকেই হয়তো জানেন না, এই তিথিতেই শ্রীশ্রী মা তারার আবির্ভাব ঘটেছিল। হ্যাঁ, সত্যিই তাই; ঋষি বশিষ্ঠের সাধনায় মা তুষ্ট হয়ে এই তিথিতেই ঋষি বশিষ্ঠকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং ঋষি বশিষ্ঠ ‘তারা সিদ্ধ’ হয়েছিলেন। অনেকেই হয়তো জানেন না, তারাপীঠের আসল সাধক ঋষি বশিষ্ঠ। যদিও পরবর্তীকালে নানা ধরনের গল্প লেখা হয়েছে এবং ঋষি বশিষ্ঠের নাম অনেক জায়গায় উল্লেখই নেই।
ভাদ্র মাসের অমাবস্যায় তারা মায়ের পুজো করতে অনেকেই তারাপীঠে গিয়ে তারা মায়ের পূজা করে থাকেন। তাঁদেরকে বলছি— সেদিন তারা মায়ের আবির্ভাব ঘটেনি। তারা মায়ের আবির্ভাব ঘটেছিল কার্তিক মাসের এই অমাবস্যা তিথিতেই। এই তিথিতেই ঋষি বশিষ্ঠ তারা মাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং মায়ের দর্শন পেয়েছিলেন।
ভ্রাতৃ দ্বিতীয়াতে ভাইফোঁটা দেওয়ার শুভ সময়
যারা ভ্রাতৃ দ্বিতীয়াতে ভাইফোঁটা দিতে যান, তাঁরা আগামী ২৩শে অক্টোবর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টোর মধ্যেই ভাইফোঁটা দেবার চেষ্টা করবেন।আশা করি আপনাদের ভাই সুস্থ থাকবেন এবং সর্বক্ষেত্রে সফল হবেন।
যাইহোক, লেখাটি সম্পূর্ণ পড়বার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো লাগলে একটি লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন। মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি, আপনাদের সকলের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হোক এবং ধন-ঐশ্বর্যে ভরে থাকুন সারা বছর।
জয় মা।
