নমস্কার বন্ধু! এখন বলব মেষ রাশি অর্থাৎ মেষ রাশির জাতক-জাতিকার জীবনে ২০২৬ সালের কোন মাসে কী ঘটতে পারে, সেই সঙ্গে নিঃশুল্ক প্রতিকার এবং টোটকা।
এই মুহূর্তে মেষ রাশির দ্বাদশে অর্থাৎ মীন রাশি গৃহে শনি গ্রহ বৃহস্পতির নক্ষত্রে অবস্থান করছে; অর্থাৎ মেষ লগ্নের শনির সাড়েসাতি চলছে। ফলে নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা রকমের বাধা-বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে পারেন। কিছু জাতক-জাতিকার যৌন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকেই হয়তো পাথর, কবজ ইত্যাদি ধরনের পরামর্শ দিতে পারে, কেউ হয়তো ধারণ করেও নিয়েছেন। আমি বলি কী, কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই; শুধু সত্যের পথে চলুন, নিজের ধর্মকে বিশ্বাস করুন।
বছরের শুরু থেকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত আপনার ভাগ্য আপনাকে সঙ্গ দেবে না ঠিকই, কিন্তু ১৬ই মার্চ ২০২৬ থেকে নানাভাবে ভাগ্যোদয়ের সম্ভাবনা প্রবল এবং সহসা আর্থিক অনটন অনুভূত হবে না। ১৬ই মার্চ ২০২৬-এর পর কর্মচারী, আধিকারিক, প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী ইত্যাদির খুলে যেতে পারে আয়ের নতুন নতুন পথ। ১৫ই এপ্রিলের পর কেউ কিনে ফেলতে পারেন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি—অর্থাৎ সম্পত্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।
১৫ই জানুয়ারি থেকে ২রা ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যার্থীর বিদ্যায় নানা উন্নতিসহ প্রতিভার বহিঃপ্রকাশের সম্ভাবনা প্রবল। সেই সঙ্গে কিছু জাতক-জাতিকার জীবনে আসতে পারে নতুন প্রেম। ১৫ই এপ্রিল থেকে ১৪ই মে ২০২৬-এর মধ্যে কেউ আবদ্ধ হতে পারেন প্রেম-বিবাহ বন্ধনে। ১৫ই জানুয়ারি থেকে ২রা ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপনার উপস্থিত বুদ্ধি এবং শারীরিক ক্ষমতা অনেকের সাথেই আপনাকেও আশ্চর্য করতে পারে। কারও ঘটতে পারে নতুন কর্মসংস্থান, কেউ পেতে পারেন পদোন্নতি। বিশেষ করে ১৫ই জানুয়ারি থেকে ১লা এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে মেডিকেল প্রফেশন অথবা আইটি সেক্টরে যাঁরা আছেন, তাঁদের জন্য সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শুভদায়ক হতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে কোনো জাতিকা হঠাৎই গর্ভবতী হতে পারেন। ১৬ই এপ্রিল থেকে ১৪ই মে ২০২৬-এর মধ্যে কারও সন্তান অভাবনীয় এমন কিছু করতে পারে, যার জন্য জাতক বা জাতিকা সমাজে সামাজিক প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। সেই সঙ্গে কারও সন্তান বংশের নাম উজ্জ্বলকারী হতে পারে; অর্থাৎ সন্তানের ঘটতে পারে সুউচ্চ কর্মসংস্থান বা প্রশাসনিক পদ অথবা পেতে পারে সংগঠনের বিশেষ দায়িত্বভার। শুধু তাই নয়, ওই সময়ে বিদ্যার্থীর বিদ্যায় নানা ধরনের উন্নতিসহ প্রতিভার বহিঃপ্রকাশের সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু ১৭ই অক্টোবর থেকে ১৫ই নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বিদ্যার্থীর মনোনিবেশে বাধা আসতে পারে, সেই সঙ্গে সন্তান-সন্ততিও নানাভাবে অসুস্থতার শিকার হতে পারে; ওই সময় ওদের প্রতি একটু লক্ষ্য রাখবেন।
ভ্রাতৃস্থানীয় অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তির গুপ্ত শত্রুতার কারণে নানাভাবে বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন। বছরের শুরুতে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে নানা উন্নতিসহ আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে ১লা মার্চ থেকে ২৪শে মার্চের মধ্যে নানাভাবে অকল্পনীয় আর্থিক উন্নতি ঘটতে পারে; কিন্তু একই সাথে শখ-আহ্লাদের কারণে নানাভাবে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও প্রবল। অবশ্য ১লা আগস্ট থেকে ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বাণিজ্যে অবনতি তথা আর্থিক অনটন দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে অক্টোবরের ১৭ তারিখের পর কর্মক্ষেত্রে নানা ডামাডোলও দেখা দিতে পারে। প্রাণপাত করে কাজ করেও কারও কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি পাবেন না, বরং আপনার কাজের নানা ধরনের খুঁত ধরবার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এ নিয়ে চিন্তিত হবেন না; আগামী ১৬ই নভেম্বর ২০২৬ থেকে ক্রমশ আবার আপনি স্বমহিমায় ফিরে আসবেন।
তবে মাঝেমধ্যেই বিশেষ করে ৮ই আগস্ট থেকে ২৬শে আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ভ্রাতৃস্থানীয় কোনো ব্যক্তির সুপরিকল্পিত চক্রান্তের শিকার হতে পারেন। তাই আমার একান্ত অনুরোধ, নিজের মনের কথা চট করে কাউকে বলবেন না। ১লা মার্চ থেকে ২৪শে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী তথা প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক মনমুগ্ধকর হতে পারে; কিন্তু ১লা আগস্ট থেকে ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী তথা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিতে পারে। ওই সময়ে বাণিজ্যেও নানা বাধা-বিড়ম্বনা দেখা দিতে পারে। ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে ১২ই নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, অবশ্য তারপর ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
১৭ই অক্টোবর থেকে ১৫ই নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কর্মক্ষেত্র থেকে কিছু অসাধু উপায়ে টাকা-পয়সা উপার্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ওই সময় একটু সতর্ক থাকবেন, অন্যথায় যশ-খ্যাতি নাশসহ কর্মচ্যুতি ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে আইনি সমস্যায়ও জড়িয়ে পড়তে পারেন। তাই আমার একান্ত অনুরোধ, অসাধু অর্থের মোহ ত্যাগ করবেন এবং যাই করুন না কেন কোনো ধরনের বেআইনি কাজের সাথে যুক্ত হবেন না। মনে রাখবেন, মেষ রাশির জাতক-জাতিকার জন্য ২রা জুন থেকে ১লা নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শুভদায়ক। ওই সময় সত্যের পথে নানাভাবে আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা প্রবল। তবে কিছু গুরুস্থানীয় ব্যক্তির জন্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক ব্যক্তিগণ সাক্ষাতে জেনে যেতে পারেন অথবা কল করতে পারেন। তাছাড়া নিঃশুল্ক প্রতিকার বলছি, একটু ধৈর্য ধরে লেখাটি পড়তে থাকুন। বন্ধু, আপনার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, জ্যোতিষরূপী কোনো পাথর-কবজ বিক্রেতার সান্নিধ্যে এবং তাদের পরামর্শে ভয় পেয়ে দুম করে পাথর-কবজ কিনতে যাবেন না। আবার বলছি, শনির সাড়েসাতিকে ভয় পাবেন না।
নিঃশুল্ক প্রতিকার এবং টোটকা:
মেষ রাশির সমস্ত সম্প্রদায়ের জাতক-জাতিকাগণ ঘুম থেকে উঠে পবিত্র দেহ, মন ও বস্ত্রে সাদা পায়রাকে ভাঙা গম এবং জল খেতে দিন। জ্যান্ত না পেলে চীনামাটি বা পাথরের একজোড়া পায়রার সামনে দুটি পাত্র রেখে একটিতে ভাঙা গম এবং অন্যটিতে জল খেতে দিন। প্রতিদিন ওগুলো পাল্টে দেবেন। দেখবেন ক্রমশ সময়টা আপনার অনুকূল হয়ে উঠেছে এবং জীবদ্দশায় কোনো রকম অর্থের অভাব দেখতে হবে না।
- শুভ রং: সাদা এবং নীল।
- শুভ সংখ্যা: ২ এবং ৮।
- শুভ দিন: শুক্রবার এবং শনিবার।
- বিশেষ টিপস: সর্বক্ষণ একটি লাল রঙের রুমাল সঙ্গে রাখতে পারেন; আশা করি অবশ্যই সফল হবেন।
হিন্দু সনাতনীরা প্রতি মঙ্গলবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা বগলার পূজায় মাকে তুষ্ট করতে পারলে, আশা করি আপনাদের জীবনের সমস্ত বাধা-বিড়ম্বনা দূর হবে এবং সর্বক্ষেত্রে সফল হবেন—এতে কোনো সন্দেহ নেই। পূজা পদ্ধতি এখানে বলতে পারলাম না; বিশেষ প্রয়োজনে সাক্ষাতে জেনে নিতে পারেন।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। ২০২৬-এ আপনার জীবন সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক।
