অনেকেই জানতে চান— “আমার ছেলে/মেয়ে মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে, এরপর ওকে কী নিয়ে পড়ালে জীবনে উন্নতি করতে পারবে?” আসুন, এই নিয়ে আজ সামান্য আলোচনা করি।
সর্বপ্রথম বলে রাখি, জন্মের দিন, তারিখ, মাস, বছর, স্থান এবং সঠিক সময়ের বৃত্তান্ত ছাড়া কোনোভাবেই জ্যোতিষ গণনা সম্ভব নয়। হাত, পা, মুখ, নাম, নামের আদ্যক্ষর, কোনো ধরনের কার্ড, টিয়া পাখি ইত্যাদির দ্বারা গণনা করে মনগড়া কিছু কথা বলে মানুষকে আনন্দ দেওয়া যায় অথবা বিভ্রান্ত করে ভয় দেখিয়ে প্রতিকার (অর্থাৎ পাথর, কবজ ইত্যাদি) বিক্রি করা যায় ঠিকই; কিন্তু জন্মকালীন চন্দ্র তথা অন্যান্য গ্রহের নক্ষত্রগত অবস্থান এবং তার ডিগ্রি, পল, বিপল, অনুপল নির্ধারণ অসম্ভব। অর্থাৎ, কোনোভাবেই সঠিক ভাগ্য গণনা সম্ভব নয়।
আজ জন্মকালীন চন্দ্রের অবস্থান অর্থাৎ রাশির ওপর নির্ধারণ করে জাতক-জাতিকার (বিশেষ করে বিদ্যার্থীদের) আগামী ভবিষ্যৎ অর্থাৎ ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন সম্বন্ধে কিছু বলব। সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের সন্তান-সন্ততিকে পড়াশোনা করান এটাই ভেবে যে, ওই সন্তানটি ভবিষ্যতে যেন তার কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে নিজ বংশ তথা সমাজ-সংসারের নাম উজ্জ্বল করে। আর এটাই, অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের পরই তাকে বেছে নিতে হবে সে কোন পথে এগোবে— চাকরি নাকি ব্যবসা? প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সন্তান-সন্ততিগণ তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সহজেই নিজেকে নিয়োজিত করতে সক্ষম হয়; অর্থাৎ এদের থালাভরা ভাতের অভাব হয় না। আর কর্মজীবীর সন্তান-সন্ততিকে প্রতিষ্ঠা পেতে হয় বহু কষ্টে প্রাপ্ত কর্মের দ্বারাই। এই সময়টাই অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের পরই বিদ্যার্থীদের জন্য তার জীবনের চলার পথ বেছে নেওয়ার সঠিক সময়।
আমি নিজে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক। কর্মপ্রাপ্তির পরিশ্রমের ব্যাখ্যা এই সামান্য পরিসরে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তাই সে বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছি না। কিন্তু কর্মজীবনে বহুবার নানাভাবে হিংসা, শত্রুতা, বৈষম্য, মিথ্যে অপবাদ— আরও কত কিছু সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি। কখনো কখনো সত্যিই মানসিক বিধ্বস্ততায় ভুগতাম; মনে হতো চাকরি ছেড়ে কোনো ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু ওদেরকে উপেক্ষা করে আমি সর্বদাই এগিয়ে গেছি আমার নিজের সঠিক লক্ষ্যে। অবশ্য এজন্য আমাকে অনেক পরিশ্রমও করতে হয়েছে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী নিজের হরোস্কোপের বিচার করেছি বারবার; সেই সঙ্গে সঠিকভাবে জ্যোতিষ, তন্ত্র এবং বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ফলে কোনো বাধা-বিড়ম্বনাই আমাকে তেমন বিব্রত করতে পারেনি। পরবর্তীকালে যাদের সঙ্গে ওই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাদেরও রাশিচক্রের বিচার করে প্রতিকার বলে দিয়েছি— যার জন্য আজও তারা নানাভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মক্ষেত্রে নিজেকে রক্ষা করে ক্যারিয়ারে সাফল্য অর্জন করেছি এবং পরবর্তীকালে আমার অধীনস্থ কর্মচারী, সহকর্মী, আধিকারিক ইত্যাদির প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদেরকে রক্ষা করে সাফল্যের ঊর্ধ্বে পৌঁছে দিতে সামর্থ্য হয়েছি, সেই বিষয়ে আজ সামান্য আলোচনা করছি।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সর্বপ্রথম দেখতে হয় জন্মকালীন রাশিচক্রের দশম ভাব এবং ভাবাধিপতি কী অবস্থায় ছিল; অর্থাৎ তুঙ্গস্থ ছিল নাকি নীচস্থ ছিল। দশম ভাব কোনো গ্রহের নক্ষত্রগত অবস্থান ও দৃষ্টি বিনিময়ের কারণে কি আলোকিত ছিল, নাকি পীড়িত ছিল? সেই সঙ্গে দশম ভাবাধিপতি কোন স্থানে, কোন নক্ষত্রের কত ডিগ্রি, পল, বিপল, অনুপলে অবস্থান করছিল এবং সে কোন কোন গৃহ বা স্থানকে আলোকিত করছিল। যার দ্বারা বোঝা যায় ব্যক্তির ভবিষ্যৎ কর্মজীবন কেমন হতে পারে— অর্থাৎ ব্যক্তি উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরি পাবে নাকি বেসরকারি, নাকি সামান্য কর্মচারী হবে।
ব্যবসায়ীগণ তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য নিকটস্থ কোনো বিদগ্ধ জ্যোতিষ শাস্ত্রজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই সঙ্গে সাফল্য তথা কী কী কারণে অসফলতা আসতে পারে এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কী— অর্থাৎ কী কী করলে ওই ব্যক্তি সমস্ত বাধা-বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারবেন নিজের লক্ষ্যে। অবশ্য এ বিষয়ের ব্যাখ্যা তাদের প্রয়োজন যারা জ্যোতিষ শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করছেন বা রিসার্চ অর্থাৎ অনুসন্ধান বা পিএইচডি করছেন। তাই এ বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করলাম না। জানবার ইচ্ছুক ব্যক্তি বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন যে সমস্ত ইউনিভার্সিটিতে জ্যোতিষ শাস্ত্র সম্বন্ধে পড়ানো হয় এবং সেই সমস্ত ইউনিভার্সিটির কোনো প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন যাদের আন্ডারে জ্যোতিষীরা পিএইচডি করে থাকেন; অথবা আপনার নিকটস্থ কোনো বিদগ্ধ জ্যোতিষ শাস্ত্রজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে কোনো অজ্ঞ জ্যোতিষরূপী ব্যবসায়ীর কাছে গেলে সে আপনাকে বিভ্রান্ত করে নানা ধরনের পাথর, কবজ ইত্যাদি বিক্রি করবার চেষ্টা করবেই এবং পরবর্তীকালে সমগ্র জ্যোতিষ সমাজের বদনাম করবেই— এতে কোনো সন্দেহ নেই। যাই হোক, পাঠক-পাঠিকার জ্ঞাতার্থে এ বিষয়ে সামান্য আলোচনা অবশ্যই করব, যার দ্বারা তাঁদের নিজস্ব কর্মজীবনে অর্থাৎ ক্যারিয়ারে সাফল্য আসতে পারে এবং তাঁরা যাতে হিংসা, শত্রুতা, বৈষম্য, মিথ্যে অপবাদ ইত্যাদির থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সেই সঙ্গে কোন রাশির বিদ্যার্থীর কী ধরনের কর্মসংস্থান ঘটতে পারে, সে বিষয়ে সামান্য আলোচনা করব।
কখন ঘটে কর্মসংস্থান এবং পদোন্নতি বা ক্যারিয়ারে সাফল্য:
জন্মকালীন রাশিচক্রের বিচার করলে বোঝা যায় ব্যক্তির কর্মজীবন কেমন হবে। অর্থাৎ, সে কি উচ্চপদস্থ সরকারি বা সমতুল্য চাকরি পাবে, নাকি সামান্য চাকরিজীবী হয়েই জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে। (ব্যবসা ভিন্ন বিষয়, তাই ব্যবসার বিষয়ে অন্যত্র আলোচনা করা যাবে)। তৎকালীন রাশিচক্রে গ্রহের নক্ষত্রগত অবস্থান ও দৃষ্টি বিনিময়ের কারণে দশম ভাব ও ভাবাধিপতি যদি আলোকিত ও অনুগ্রহীত হয়ে ওঠে, তাহলে ব্যক্তির নতুন কর্মসংস্থান, পদোন্নতি, কেউ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানাভাবে পুরস্কৃত হয়ে থাকে। কিন্তু যদি ষষ্ঠাধিপতির নক্ষত্রগত অবস্থান ও দৃষ্টি বিনিময়ের কারণে ষষ্ঠ ভাব ও ভাবাধিপতির কুপ্রভাবে প্রভাবিত হয় এবং একই সাথে নবম ও দশম ভাব ও ভাবাধিপতিকে পীড়িত করে, তাহলে ওই ব্যক্তির শত্রু সংখ্যা বৃদ্ধি পাবেই এবং নানাভাবে ভাগ্য বিড়ম্বনাসহ মানসিক বিধ্বস্ততার শিকার হতে বাধ্য হবে— এতেও কোনো সন্দেহ নেই। এবিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাকে কল ক্রতেন পারেন।
রাশি অনুযায়ী কর্মপ্রাপ্তি তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সামান্য ব্রত:
এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে, জন্মকালীন চন্দ্রের নক্ষত্রগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ব্যক্তি অর্থাৎ বিদ্যার্থী কী ধরনের চাকরি পছন্দ করবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সে সফলতা পেতে পারে।
(ক) মেষ রাশি: মেষ রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীদের রাশি অনুযায়ী অমাবস্যার শুভক্ষণে মন্দিরে গিয়ে নয়, নিজ গৃহে সম্পূর্ণ একান্তে পবিত্র দেহ, মন ও বস্ত্রে শ্রীশ্রী মা দক্ষিণাকালীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি শনিবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা দক্ষিণাকালীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। মনে রাখতে হবে, ওই পূজায় রক্তজবা এবং নীলকণ্ঠ অর্থাৎ নীল অপরাজিতা ফুল দেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। মেষ রাশির বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা জনপ্রতিনিধিত্ব করবার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এদেরকে সক্ষম হতেও দেখেছি।
(খ) বৃষ রাশি: বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাগণও ওই একই নিয়মে অর্থাৎ বৃষ রাশির জাতক-জাতিকার রাশি অনুযায়ী অমাবস্যার শুভক্ষণে শ্রীশ্রী মা দক্ষিণাকালীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি শনিবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা দক্ষিণাকালীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজাতেও নীল অপরাজিতা এবং রক্তজবা ফুল দেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। বৃষ রাশির বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার (বিশেষ করে মনোবিজ্ঞানী), প্রশাসনিক পদ, কেউ আবার শিল্পকলায় উন্নতি করবার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে এবং বহু ক্ষেত্রে এদেরকে সফল হতেও দেখেছি।
(গ) মিথুন রাশি: মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে শ্রীশ্রী মা তারার পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি বৃহস্পতিবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা তারার পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। মনে রাখবেন, এই পূজায় হলুদ গাঁদা, হলুদ জবা বা সূর্যমুখী ফুল দেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। মিথুন রাশির বিদ্যার্থীরা কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলা, উগ্র মনোভাবাপন্ন, কেউ আবার প্রশাসনিক পদ (বিশেষ করে উচ্চাধিকারীর পদ) প্রাপ্তির আশা করে থাকে। অবশ্য কিছু বিদ্যার্থীকে অভিনয় বা আইন নিয়ে পড়াশোনা তথা উন্নতি করতে দেখা গেছে।
(ঘ) কর্কট রাশি: কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে শ্রীশ্রী মা বগলার পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি মঙ্গলবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা বগলার পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় হলুদ জবা, গাঁদা বা সূর্যমুখী ফুল দেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। কর্কট রাশির বিদ্যার্থীরা বহু ক্ষেত্রে উদার এবং প্রেমিক মনোভাবাপন্ন, অভিনেতা-অভিনেত্রী, আইনজ্ঞ, চিত্রশিল্পী— এছাড়া এরা অত্যন্ত প্রতিভাবান হয়ে থাকে। এদের জীবনে এক-এক সময় এক-এক ধরনের প্রতিভার বহিঃপ্রকাশের সাথেই উন্নতি করতে দেখা গেছে।
(ঙ) সিংহ রাশি: সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে মাতা শ্রীশ্রী ভুবনেশ্বরীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি শুক্রবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে মাতা শ্রীশ্রী ভুবনেশ্বরীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় বাসন্তী গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা অথবা বেলিফুল থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সিংহ রাশির বিদ্যার্থী বা জাতক-জাতিকাগণ ছোটবেলা থেকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করে; তাছাড়া বহু ক্ষেত্রে এদেরকে প্রশাসনিক পদে প্রতিষ্ঠা পেতে দেখা গেছে। তাছাড়া ক্রোধের কারণে ক্রমাগত এদের শত্রু সংখ্যা বৃদ্ধি পেতেও দেখা গেছে।
(চ) কন্যা রাশি: কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে শ্রীশ্রী মা ত্রিপুরেশ্বরীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি বুধবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা ত্রিপুরেশ্বরীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। মাতা শ্রীশ্রী ত্রিপুরেশ্বরীর পূজায় কাঁঠালি চাঁপা, চন্দ্রমল্লিকা এবং বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুল থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রসাদে শসা দিতে ভুলবেন না। কন্যা রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই শিল্পকলায় (বিশেষ করে চিত্রশিল্প এবং অভিনয়ে) উন্নতি করে থাকে। তাছাড়া আইনজ্ঞ তথা প্রশাসনিক পদেও এদেরকে উন্নতি করতে দেখা গেছে।
(ছ) তুলা রাশি: তুলা রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে শ্রীশ্রী মা কমলার পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি সোমবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা কমলার পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় বাসন্তী গাঁদা ফুল, চন্দ্রমল্লিকা এবং বেলিফুল থাকা বাঞ্ছনীয়। তুলা রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের প্রতিভায় প্রতিভাবান হয়ে থাকে এবং এদের প্রতিভা এক-এক সময় এক-এক দিক উজ্জ্বল করে থাকে। অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা প্রশাসনিক পদ কামনা করে থাকে; শুধু তাই নয়, এদেরকে দক্ষ শাসক রূপে প্রতিষ্ঠা পেতে দেখেছি।
(জ) বৃশ্চিক রাশি: বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে মাতা শ্রীশ্রী মাতঙ্গীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি রবিবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে মাতা শ্রীশ্রী মাতঙ্গীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় রক্তজবা এবং লাল গোলাপ ফুল দেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকা তথা বিদ্যার্থীরা বেশিরভাগ সময়ে নানা ধরনের দুশ্চিন্তায় দিনযাপন করে; কিন্তু অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে এরা কোনো সংস্থার আধিকারিকের পদে আসীন হয়ে থাকে। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনজ্ঞ রূপেও দেখা গেছে। কিছু জাতক-জাতিকাকে সামান্য চাকরি পেয়েও শেষ বয়সে আধিকারিক রূপে অবসর নিতে দেখা গেছে।
(ঝ) ধনু রাশি: ধনু রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে মাতা শ্রীশ্রী ত্রিপুরেশ্বরীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি বুধবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে মাতা শ্রীশ্রী ত্রিপুরেশ্বরীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় বাসন্তী গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা এবং বেলি ফুল থাকা বাঞ্ছনীয়। ধনু রাশির জাতক-জাতিকা তথা বিদ্যার্থীদের মনে ছোটবেলা থেকেই কখনো শিল্পকলা, কখনো প্রশাসনের উচ্চপদে আবার কখনো খেলাধুলায় পারদর্শী হবার আকাঙ্ক্ষা জন্মে থাকে এবং এক্ষেত্রে এদেরকে সফল হতেও দেখা গেছে।
(ঞ) মকর রাশি: মকর রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে মাতা শ্রীশ্রী ভুবনেশ্বরীর পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি শুক্রবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে মাতা শ্রীশ্রী ভুবনেশ্বরীর পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় বাসন্তী গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা এবং বেলিফুল থাকা বাঞ্ছনীয়। মকর রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীর মনে ছোটবেলা থেকেই আকাঙ্ক্ষা থাকে ভবিষ্যতে সে শিক্ষক বা শিক্ষিকা হোক; কেউ চিকিৎসা শাস্ত্র পছন্দ করে, কেউ আবার প্রশাসনিক পদের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে থাকে এবং বহু ক্ষেত্রে এদেরকে সফল হতেও দেখা গেছে।
(ট) কুম্ভ রাশি: কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে মাতা শ্রীশ্রী বগলার পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি মঙ্গলবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে মাতা শ্রীশ্রী বগলার পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এই পূজায় হলুদ জবা, গাঁদা অথবা সূর্যমুখী ফুল এবং প্রসাদে পাকা পেঁপে থাকা বাঞ্ছনীয়। কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্র পছন্দ করে; কেউ হতে চায় ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে থাকে এবং বহু ক্ষেত্রে এদেরকে সফল হতেও দেখা গেছে।
(ঠ) মীন রাশি: মীন রাশির জাতক-জাতিকাগণ ওই একই নিয়মে শ্রীশ্রী মা তারার পূজা আরম্ভ করে, তারপর প্রতি বৃহস্পতিবার নিরামিষ আহারসহ ব্রহ্মচর্য পালন করে শ্রীশ্রী মা তারার পূজায় মা-কে তুষ্ট করতে পারলে আশা করি সত্বর শত্রু দমন, কর্মসংস্থান তথা ক্যারিয়ারে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে প্রবল। মীন রাশির জাতক-জাতিকা বা বিদ্যার্থীরা ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে; কেউ আইনজ্ঞ হতে চায়, কেউ আবার লোহা জাতীয় যন্ত্রাংশের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার বা ওই ধরনের কোনো পেশায় নিযুক্ত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে।
বিঃদ্রঃ – জন্মকালীন চন্দ্রের অবস্থান অর্থাৎ রাশির ওপর বিদ্যার্থী তথা জাতক-জাতিকার মনের ইচ্ছা প্রকাশ করা হলো। এটা সম্পূর্ণ নয়; কারণ ১২টি রাশি গৃহে ৯টি গ্রহ এবং ২৭ + ১ = ২৮টি নক্ষত্রের অবস্থানগত বিচারের পর নিশ্চিত করে বলা যায় ওই সন্তানটি ভবিষ্যতে কোন পথে এগোলে সে সত্যি সাফল্য অর্জন করে নিজের বংশ তথা সমাজের নাম উজ্জ্বল করতে পারে। আরও একটি কথা এখানে বলা অবশ্যই প্রয়োজন— সংকল্পহীন পূজা বা ব্রত করলে কখনই সফলতা আসে না। তাই পূজার শুরুতে সংকল্প করতে ভুলবেন না। মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, পুজোর জন্য ছয়টি তথ্য অবশ্যই প্রয়োজন— তা হলো শ্রদ্ধা, ভক্তি, বিশ্বাস, নিষ্ঠা, পবিত্রতা এবং একাগ্রতা। এই ছয়টি তথ্য ভিন্ন কোনো পূজাই সম্পূর্ণ হয় না। এই সামান্য পরিসরে পূজা পদ্ধতি উল্লেখ করা সম্ভব নয়। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো বিদগ্ধ তান্ত্রিক আচার্যের কাছে পূজা পদ্ধতি জেনে নিতে পারেন। অথবা আমাকে কল করতে পারেন।
Mob/No-7980651708, 9831831442.
