Maha Shivratri 2026 : Date & Time in Bengali

নমস্কার দর্শকবন্ধু, আজ বলবো শিবরাত্রির পূজা সম্বন্ধে। হ্যাঁ, সত্যিই তাই। বলবো এই পূজাকে কবে কীভাবে প্রথম শুরু করেছিল এবং এই পূজার পর সেই ব্যক্তির কী ধরনের ফলপ্রাপ্তি ঘটেছিল।

আসুন জেনে নেওয়া যাক শিবরাত্রি পূজার সম্বন্ধে। তবে একটাই অনুরোধ, দয়া করে স্ক্রল করে করে ভিডিওটি দেখবেন না; যদি ভালো না লাগে তাহলে এক্ষুনি বেরিয়ে যান। আর যদি ভালো লাগে তাহলে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন, কারণ সম্পূর্ণ ভিডিওটি না দেখলে আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না। কারণ পূজা অনেকেই করেন এবং সেই পূজায় শ্রদ্ধা, ভক্তি, নিষ্ঠার কোনো ধরনের কার্পণ্য থাকে না, কিন্তু সফল হন ক’জন? আজ সেই নিয়েই আলোচনা করব, আসুন জেনে নেওয়া যাক।

শিব পুরাণ অনুযায়ী প্রাচীনকালে বারাণসী স্থিত কোনো এক গ্রামে ক্রূর এবং কুটিল মনোভাবাপন্ন একজন ব্যাধ বসবাস করত। বনের নিরীহ পশুপাখি হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়াই ছিল ওই ব্যাধের প্রধান কাজ। কোনো এক ফাল্গুনী কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর দিন শিকারে বেরিয়ে শিকার করতে করতে সে পৌঁছে যায় বাড়ি থেকে বহু দূরে এবং ফিরবার পথে সন্ধে নেমে আসলে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য বধ করা পশুপাখিগুলিকে একটি বেল গাছের ডালে বেঁধে রেখে অন্য একটি ডালে উঠে বসে সূর্যোদয়ের অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু ক্ষুধার্ত ব্যাধ কুয়াশায় বা শিশিরে ভিজে ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপতে থাকে। ইতিমধ্যেই ত্রয়োদশী সম্পূর্ণ করে তিথি পৌঁছে গিয়েছিল কৃষ্ণা চতুর্দশীতে।

বহু বছর আগে একজন শিবভক্ত একটি শিবলিঙ্গ ওই গাছের নিচে প্রতিষ্ঠা করে পূজা করতেন। কিন্তু তিনি গত হওয়ার পর ওই লিঙ্গটি কারো নজরে আসেনি। ওই ব্যাধের হাত লেগে একটি বেলপাতা খসে চিত হয়ে গিয়ে পড়ে ওই গাছের নিচে প্রতিষ্ঠিত সেই প্রাচীন শিবলিঙ্গের উপর। একই সঙ্গে তার হাত থেকে গড়িয়ে পড়ে জল। দীর্ঘ বছর পর নিজের অজান্তেই ওই ব্যাধের দ্বারা শিবলিঙ্গে সঠিক নিয়মে বেলপাতা এবং জল অর্পণ করে ফেলে ওই ব্যাধ। দীর্ঘ বছর পর ওই শিবলিঙ্গে বেলপাতা এবং জল অর্পিত হওয়ায় দেবাদিদেব মহাদেব বা শিব চমকে উঠে দিব্যদৃষ্টিতে বেদের কর্মকাণ্ড দেখে তার প্রতি প্রসন্ন হয়ে শিবদূতগণকে ব্যাধের উপর নজর রাখার আদেশ দেন।

যথাসময়ে ব্যাধের মৃত্যু হলে যমদূতগণ তাকে যমালয়ে নিয়ে যেতে চায় তার পাপের শাস্তির ব্যবস্থার জন্য; কিন্তু শিবদূতগণ তাদের বাধা দিয়ে ব্যাধের দ্বারা কৃত কর্মকাণ্ডসহ শিবের আদেশ শোনালে যমদূতগণ ফিরে যায় এবং শিবদূতগণ তাকে শিবালয়ে নিয়ে চলে যান। মাতা পার্বতী এই কথা শুনবার পর ব্যাধের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে শিবদূতগণকে আদেশ দেন পৃথিবীতে ফাল্গুনী কৃষ্ণা চতুর্দশীতে শিবরাত্রির পূজার প্রথা আরম্ভ করতে এবং শিবদূতগণ পৃথিবীতে শিবরাত্রি পূজা প্রথা আরম্ভ করেন। অর্থাৎ শিব পুরাণ অনুযায়ী শিবরাত্রির প্রথম পূজারী ক্রূর-কুটিল ওই ব্যাধ। শুধু তাই নয়, দেবাদিদেব মহাদেব যে শুধু একটি বেলপাতাতেই তুষ্ট, তা বোঝা যায় ব্যাধের দ্বারা অবচেতন মনে ওই শিবলিঙ্গে পূজায়। পরবর্তীকালে অবশ্য শিবভক্তগণ চার প্রহরে দশোপচারে শিবরাত্রির পূজা প্রথা শুরু করেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক এবছর শিবরাত্রিতে কখন কীভাবে পালন করবেন।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি পঞ্জিকার পণ্ডিতগণের মতে, আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বঙ্গাব্দের ২রা ফাল্গুন, রবিবার ১৪৩২), বিকেল ৪টে ৪৯ মিনিট ৪ সেকেন্ডের পর শুরু হচ্ছে ফাল্গুনী কৃষ্ণা চতুর্দশী এবং সূর্যাস্ত ঘটছে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে অর্থাৎ রাত্রিকাল শুরু হচ্ছে। যদিও ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকার পণ্ডিতগণের মতও ভিন্ন। যাইহোক, এরপর রাত্রি ৫টা ৩০ মিনিট থেকে রাত্রি ৭টা ৩৭ মিনিটের মধ্যে আপনারা শিবরাত্রির প্রথম প্রহরের পূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন। যদিও দশোপচারে শিবরাত্রির পূজা উদযাপনের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এই সামান্য সময়ে সম্ভব নয়, তাই সংক্ষেপে শুধুমাত্র পূজার মন্ত্র এবং নিয়মটুকুই বলছি।

প্রথম প্রহরের পূজার নিয়ম এবং মন্ত্র

সর্বপ্রথম একটি গোলাকৃত শিলাখণ্ড বা শিবলিঙ্গ নিয়ে তাকে দুধ দিয়ে স্নান করাবেন। (মনে রাখবেন পূজার আগে জল শুদ্ধি, মুখ শুদ্ধি, পুনরায় জল শুদ্ধি, ফুল শুদ্ধি, ফল শুদ্ধি, দেহবন্ধন, আসনবন্ধন, দিকবন্ধন ইত্যাদির পর সংকল্প করে পূজা আরম্ভ করবেন। এও মনে রাখবেন পুজোর সময় আপনার মুখ থেকে কোনো ধরনের শব্দ যেন উচ্চারিত না হয়। কারণ আপনার মুখ থেকে শব্দ উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই থুতু নির্গত হবে, আপনার ঠোঁট দুটো অপবিত্র হয়ে যাবে এবং ফুল-ফল ইত্যাদির উপরেও আপনার থুতু গিয়ে পড়তে পারে। তাই পুজোর সময় মুখ বন্ধ করেই পুজো করবেন)।

শিবলিঙ্গ স্নান মন্ত্র:

ওঁ ইদং স্নানীয়দুগ্ধং নমঃ।

হৌং ঈশানায় নমঃ ওঁ।।

মনে মনে এই মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে ১২ ঘটি বা ১২ বার শিবলিঙ্গের উপর দুধ ঢেলে স্নান করাবেন।

প্রথম প্রহরের পূজার অর্ঘ্য মন্ত্র:

“ওঁ শিবরাত্রি-ব্রতমেতৎতু পূজা-জপ-পরায়ণঃ।

করোমি বিধিবদ্ দত্তম্ গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর।।”

অর্থাৎ, হে মহেশ্বর! আমি পূজা ও জপ পরায়ণ হয়ে আপনার এই শিবরাত্রির ব্রত বিধিপূর্বক পালন করছি। আমি যে অর্ঘ্য নিবেদন করছি, দয়া করে তা গ্রহণ করুন।

এরপর ১২টি আকন্দ ফুল (খুব ভালো হয় আকন্দ ফুলের মালা পরাতে পারলে) এবং সেই সঙ্গে ১২টি বেলপাতা চিত করে অর্থাৎ যেভাবে গাছের ডালে থাকে, সেই ভাবে গোল শিলাখণ্ড বা শিবলিঙ্গর উপর রেখে ১২ ঘটি বা ১২ বার জল ঢালতে ঢালতে মনে মনে উচ্চারণ করবেন:

১. ওঁ নমো শ্রীশ্রী সোমনাথায় নমঃ ওঁ

২. ওঁ নমো শ্রীশ্রী মল্লিকার্জুনায় নমো ওঁ

৩. ওঁ নমো শ্রীশ্রী মহাকালায় নমঃ ওঁ

৪. ওঁ নমো শ্রীশ্রী ওঁকারেশ্বরায় নমঃ ওঁ

৫. ওঁ নমো শ্রীশ্রী কেদারনাথায় নমঃ ওঁ

৬. ওঁ নমো শ্রীশ্রী ভীমাশঙ্করায় নমঃ ওঁ

৭. ওঁ নমো শ্রীশ্রী বিশ্বেশ্বরায় নমঃ ওঁ

৮. ওঁ নমো শ্রীশ্রী বৈজুনাথায় নমঃ ওঁ

৯. ওঁ নমো শ্রীশ্রী নাগেশ্বরায় নমঃ ওঁ

১০. ওঁ নমো শ্রীশ্রী ত্র্যম্বকেশ্বরায় নমঃ ওঁ

১১. ওঁ নমো শ্রীশ্রী রামেশ্বরায় নমঃ ওঁ

১২. ওঁ নমো শ্রীশ্রী ঘৃষ্ণেশ্বরায় নমঃ ওঁ

দ্বিতীয় প্রহরের পূজার নিয়ম এবং মন্ত্র

দ্বিতীয় প্রহরে অর্থাৎ ওই রাত্রেই ৯টা ৫ মিনিট থেকে রাত্রি ১০টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে একই নিয়মে আচমন ইত্যাদির সংকল্প করে দই জলে গুলে শিবলিঙ্গের উপর ১২ বার ঢালবেন অর্থাৎ স্নান করাবেন এবং মনে মনে উচ্চারণ করবেন:

“ওঁ ইদং স্নানীয়দধি নমঃ।

হৌং অঘোরায় নমঃ ওঁ”।।

এরপর ফুলার্ঘ্য নিবেদন করবেন।

অর্ঘ্য মন্ত্র:

“শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ।

শিবরাত্রৌ ময়দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং প্রসীদ মে।”

অর্থাৎ, পরম শান্তিময় শিবকে নমস্কার। যিনি সমস্ত পাপ হরণ করেন তাঁকে প্রণাম। হে শিব, এই শিবরাত্রিতে আমার দেওয়া এই অর্ঘ্য গ্রহণ করুন এবং আমার প্রতি প্রসন্ন হন।

তৃতীয় প্রহরের পূজার নিয়ম এবং মন্ত্র

তৃতীয় প্রহরে অর্থাৎ ওই রাত্রেই ১১টা ৪৭ মিনিট থেকে রাত্রি ১টা ২২ মিনিটের মধ্যে ওই একই নিয়মে আচমন ইত্যাদির পর সংকল্প করে শিবলিঙ্গের উপর ঘৃত অর্থাৎ ঘি মাখিয়ে, তারপর জলের সাথে ঘি মিশিয়ে ওই একই নিয়মে বেলপাতা নিবেদনের পর ১২ ঘটি বা ১২ বার জল ঢালতে ঢালতে মনে মনে উচ্চারণ করবেন:

“ওঁ ইদং স্নানীয়ঘৃতং নমঃ।

হৌং বামদেবায় নমঃ ওঁ।।”

এরপর ফুলার্ঘ্য নিবেদন করবেন এবং মনে মনে অর্ঘ্য মন্ত্র উচ্চারণ করবেন:

“দুঃখদারিদ্র্য-দগ্ধস্য দগ্ধস্য শোকসাগরৈঃ।

শিবরাত্রৌ ময়দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর।।”

অর্থাৎ, হে মহেশ্বর! আমি দুঃখ, দারিদ্র্য এবং শোকের সাগরে দগ্ধ হচ্ছি। এই শিবরাত্রিতে আমার নিবেদিত এই অর্ঘ্য গ্রহণ করে আমাকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করুন।

চতুর্থ প্রহরের পূজার নিয়ম এবং মন্ত্র

এরপর চতুর্থ প্রহরের পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শুভ ফলদায়ক হয়ে থাকে। শেষ রাত্রে অর্থাৎ ওই রাত্রিতেই ৩টে ৩১ মিনিট থেকে শেষরাত্রি ৫টা ৪২ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ প্রহরের পূজা সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। ওই একই নিয়মে আচমন ইত্যাদির পর সংকল্প করে শিবলিঙ্গের উপর মধু মাখিয়ে, তারপর ১২টি অখণ্ড বেলপাতা চিত করে অর্পণ করে জলের সাথে মধু মিশিয়ে ১২ ঘটি বা ১২ বার ঢালবেন এবং মনে মনে উচ্চারণ করবেন:

ওঁ ইদং স্নানীয়মধুনে নমঃ।

হৌং সদ্যোজাতায় নমঃ ওঁ।।

এরপর ফুলার্ঘ্য নিবেদন করবেন এবং মনে মনে উচ্চারণ করবেন:

“ময়াকৃতানি পাপানি জন্মকোটিশতৈরপি চ।

তানি সর্বাণি মে নাশন গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর।।”

অর্থাৎ, “হে মহেশ্বর! শতকোটি জন্ম ধরে আমি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে যে সমস্ত পাপ করেছি, আমার এই অর্ঘ্য গ্রহণের মাধ্যমে সেই সকল পাপ বিনাশ করুন এবং আমাকে পাপমুক্ত করুন।”

চতুর্থ প্রহরের পুজোর শেষ করবার পরদিন সকালে পারণ অর্থাৎ উপবাস ভঙনের জন্য একটি ছোট্ট মন্ত্র পাঠ করে খাবার মুখে দিতে হয়। সেটি হল:

“সংসার-ক্লেশ-দগ্ধস্য ব্রতেনানেন শঙ্কর।

প্রসীদ সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব।।”

অর্থাৎ, “হে শংকর! আমি এই সংসার যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছি; আমার এই ব্রত পালনের মাধ্যমে আপনি আমার প্রতি প্রসন্ন হন এবং হে নাথ, আপনি আমাকে জ্ঞানদৃষ্টি প্রদান করুন।”

চার প্রহরের পূজার নিয়ম মেনে যদি আপনি পূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে আপনার সমস্ত পাপ নাশসহ আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবেই এতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি কিছু বুঝতে না পারেন তাহলে 7980651708, 9831831442 নাম্বারে ফোন করবেন, অবশ্যই বলব। সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। লেখাটি ভালো লাগলে একটি লাইক দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে নিজেদের আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও উপকৃত হয়ে ঈশ্বরের কৃপা লাভ করতে পারেন।

“ওঁ নমো শিবায় নমঃ ওঁ”

“মহা শিবরাত্রির পূজার উপকরণ তালিকা” নিচে প্রয়োজনীয় উপকরণের তালিকাটি দেওয়া হলো:

  • গোলাকৃত শিলাখণ্ড বা শিবলিঙ্গ
  • গঙ্গাজল বা শুদ্ধ জল (স্নানের জন্য পর্যাপ্ত)
  • দুধ (প্রথম প্রহর)
  • দই (দ্বিতীয় প্রহর)
  • ঘি (তৃতীয় প্রহর)
  • মধু (চতুর্থ প্রহর)
  • বেলপাতা (অখণ্ড ও পর্যাপ্ত পরিমাণে)
  • আকন্দ ফুল, মালা, চন্দন, ইত্যাদি
  • ধূপ ও দীপ, চন্দন, ইত্যাদি
  • নৈবেদ্য (ফলমূল ও মিষ্টি)
  • পূজার অন্যান্য সাধারণ উপাচার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top